আয়কর রিটার্ন দাখিল না করলে বা দেরিতে দিলে কী হতে পারে?

বাংলাদেশের আয়কর আইন, ২০২৩ অনুযায়ী গুরুত্বপূর্ণ সতর্কবার্তা

অনেকেই ভাবেন—

“TIN আছে, কিন্তু রিটার্ন না দিলেও সমস্যা হবে না”

অথবা “পরে দিলেই হবে”

👉 বাস্তবে বিষয়টি এত সহজ নয়।

সময়মতো আয়কর রিটার্ন দাখিল না করলে জরিমানা, অতিরিক্ত কর এবং নানা বাস্তব জটিলতা হতে পারে।

📌 ১) ব্যক্তি করদাতা রিটার্ন না দিলে কী জরিমানা হতে পারে?

আয়কর আইন, ২০২৩ — ধারা ২৬৬ অনুযায়ী; যদি কোনো ব্যক্তি যুক্তিসঙ্গত কারণ ছাড়া আয়কর রিটার্ন দাখিল না করেন, তাহলে উপকর কমিশনার (DCT) জরিমানা আরোপ করতে পারেন।

🔹 যদি আগে কখনও কর নির্ধারণ না হয়ে থাকে:

➡️ সর্বোচ্চ জরিমানা: ৫,০০০ টাকা

🔹 যদি আগে কর নির্ধারণ হয়ে থাকে:

➡️ সর্বশেষ নির্ধারিত আয়ের করের ৫০%, অথবা

➡️ ১,০০০ টাকা

✅ যেটি বেশি হবে

🏢 ২) কোম্পানি রিটার্ন না দিলে কী হবে?

ধারা ২৬৬ অনুযায়ী: যদি কোনো কোম্পানি নির্ধারিত সময়ের মধ্যে রিটার্ন দাখিল না করে, তাহলে জরিমানা হতে পারে—

➡️ সর্বশেষ নিরূপিত আয়ের উপর ধার্যকৃত করের ১০%, অথবা

➡️ ন্যূনতম ১,০০০ টাকা

✅ যেটি বেশি হবে

⏳ বিলম্ব চলতে থাকলে:

➡️ প্রতিদিন ৫০ টাকা হারে অতিরিক্ত জরিমানাও হতে পারে

💰 ৩) দেরিতে রিটার্ন দিলে শুধু জরিমানা নয়, অতিরিক্ত করও হতে পারে

আয়কর আইন, ২০২৩ — ধারা ১৭৪ অনুযায়ী; যদি Tax Day-এর পরে রিটার্ন দাখিল করা হয়, তাহলে Additional Tax (অতিরিক্ত কর) আরোপ হতে পারে।

সহজভাবে:

➡️ বকেয়া করের উপর প্রতি মাস বা মাসের অংশের জন্য ২% হারে অতিরিক্ত কর গণনা হতে পারে

➡️ সর্বোচ্চ ২৪ মাস পর্যন্ত এই হিসাব যেতে পারে

⚠️ অর্থাৎ, রিটার্ন দাখিলে দেরি করলে মূল করের বাইরে অতিরিক্ত আর্থিক দায় তৈরি হতে পারে।

🧾 ৪) রিটার্ন না দিলে ভবিষ্যতে কী কী বাস্তব সমস্যা হতে পারে?

আজকের দিনে আয়কর রিটার্ন শুধু কর দাখিলের বিষয় নয়—এটি অনেক কাজে গুরুত্বপূর্ণ নথি।

রিটার্ন দাখিলের প্রমাণ প্রয়োজন হতে পারে, যেমন—

✅ ব্যাংক ঋণের আবেদন

✅ ক্রেডিট কার্ড

✅ ট্রেড লাইসেন্স

✅ কোম্পানির পরিচালক/শেয়ারহোল্ডার সম্পর্কিত কাজ

✅ Import/Export Registration

✅ কিছু সম্পদ, ব্যবসা বা আর্থিক লেনদেন

✅ বিভিন্ন সরকারি/আধা-সরকারি ও আর্থিক আনুষ্ঠানিকতা

🚫 ৫) একটি ভুল ধারণা ভাঙা দরকার

অনেকেই মনে করেন— “আমার কর আসে না, তাই রিটার্নও দিতে হবে না।”

❌ এটি সবসময় সঠিক নয়।

👉 কর payable না থাকলেও, আইন অনুযায়ী অনেক ক্ষেত্রে রিটার্ন দাখিলের বাধ্যবাধকতা থাকতে পারে।

✅ ৬) করদাতাদের জন্য করণীয়

নিজেকে নিরাপদ রাখতে এখনই যা করবেন—

🔹 Tax Day-এর আগেই রিটার্ন প্রস্তুত করুন

🔹 প্রয়োজনীয় কাগজপত্র গুছিয়ে রাখুন

🔹 অনলাইনে রিটার্ন দিলে Acknowledgement Slip সংরক্ষণ করুন

🔹 পূর্বের রিটার্ন/কর নির্ধারণের নথি ঠিক রাখুন

🔹 সন্দেহ থাকলে পেশাদার পরামর্শ নিন

🔔 শেষ কথা: রিটার্ন দাখিল না করা বা দেরি করা—দুটিই ঝুঁকিপূর্ণ।

আজ সামান্য অবহেলা, কাল হতে পারে জরিমানা + অতিরিক্ত কর + প্রয়োজনীয় কাজে জটিলতা।

✅ সময়মতো আয়কর রিটার্ন দাখিল করুন

✅ অপ্রয়োজনীয় জরিমানা এড়ান

✅ নিজের ট্যাক্স প্রোফাইল পরিষ্কার রাখুন

স্বদীপ রায় সজীব

এডভোকেট, বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্ট

সদস্য, ঢাকা বার অ্যাসোসিয়েশন, ঢাকা ট্যাক্স বার অ্যাসোসিয়েশন

📞 মোবাইল: +৮৮০ ১৭১৪-২৯১২৯৪

✉ ই-মেইল: sawdip@gmail.com

See less

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Scroll to Top